NEW777D: স্তানিসিচ: ব্যালন ডি'অরের ভোট আমি কেইনকে দেব, তিনি শুধু গোলই করেন না, রক্ষাও করেন
বেইজিং সময় আজ রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া নেশনস লিগে ঘরে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ম্যাচের আগে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার স্তানিসিচ সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ম্যাচ, ইংল্যান্ডের কোচ তুখেল এবং বায়ার্নের সতীর্থ কেইনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।

ইংল্যান্ড ও তুখেলকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ইংল্যান্ড নিয়ে বেশি বলার নেই। এ গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে তারা প্রমাণ করেছে কতটা গভীর ও কতটা শক্তিশালী। আমার মতে তুখেল খুব ভালো কোচ। যে কয় মাস আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, দেখেছি তিনি ফুটবল খুব বোঝেন। তিনি এক ধরনের 'স্বাভাবিক' ফুটবল খেলান। বিশেষ জটিল কিছু নেই। সব সহজ, কিন্তু খুব কার্যকর। তাঁর কাছ থেকে আমি অনেক শিখেছি। তাঁর কোচিং জীবন দেখলেও বোঝা যায়, তিনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন। তাই তাঁর বিষয়ে আমি শুধু ইতিবাচক কথাই বলতে পারি।
গত সপ্তাহে আপনি অসুস্থ ছিলেন, তাই স্পেনের বিপক্ষে খেলেননি। এখন শরীর কেমন?
সব ঠিক আছে, চিন্তার জন্য ধন্যবাদ।
বায়ার্নে আপনার ক্লাব সতীর্থ হ্যারি কেইন এখন ব্যালন ডি'অরের লড়াইয়ে আছেন। ভোট দিলে কি তাঁকে দেবেন?
আমি তাঁকেই ভোট দেব। প্রতিদিন তাঁর পরিশ্রম দেখি, শুধু আক্রমণে নয়। আমরা সবাই জানি, তিনি যত গোল করতে চান তত গোল করেন, যত অ্যাসিস্ট দিতে চান তত দেন। কিন্তু রক্ষণেও তিনি আমাদের জন্য একইভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁকে কীভাবে আটকাবেন, গোল করতে দেবেন না, এ প্রশ্ন এলে: বল যেখানেই থাকুক, সবসময় তাঁর অবস্থান দেখতে হবে। কারণ বলের কাছে তিনি হাজির হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শট শেষ করতে তাঁর এক সেকেন্ডই যথেষ্ট, আর বল কোন দিকে যাওয়া উচিত তা তিনি খুব জানেন। সবচেয়ে জরুরি হলো সবসময় তাঁর অবস্থান দেখা। তিনি নিজেই জানেন কখন কোথায় থাকা উচিত।
এ গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল। এবারের ম্যাচ কি পুরোপুরি আলাদা হবে?
প্রতিটি ম্যাচই আলাদা ম্যাচ। এটা আকর্ষণীয় লড়াই হবে। আমার কাছে তিন ডিফেন্ডার হোক বা চার ডিফেন্ডার, তাতে খুব বেশি কিছু যায় আসে না। আমরা এখানে এসেছি প্রধান কোচের চাহিদা অনুযায়ী খেলতে এবং তাঁর কৌশল মাঠে ফুটিয়ে তুলতে।
এক ম্যাচে এত উঁচু মানের খেলোয়াড় থাকলে কখনো কখনো সেদিনের ভাগ্যও কিছুটা কাজ করে। কোন দল জয় বেশি চায়, সেটাও দেখতে হয়। এসব মাঠেই ফুটে ওঠে। শেষ পর্যন্ত এক-দুই আক্রমণের মানই হয়তো জয়-পরাজয় ঠিক করে।
আগামীকালের ম্যাচে সাধারণ সমর্থক ঢুকবেন না, মাঠে মূলত ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুরা থাকবেন। আপনার মতে এতে ম্যাচে কতটা প্রভাব পড়বে?
আমার কাছে এতে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। ইংল্যান্ডের জন্য হয়তো একটু বেশি করে বোঝা যাবে। তাদের কাছে এখানে এসে ভর্তি ঘরের সমর্থকের শব্দ না শোনা একটু আলাদা লাগতে পারে।
তবে এখন দুই পক্ষের অবস্থা মোটামুটি সমান। অবশ্যই সবাই চান সমর্থকদের সামনে খেলতে। দুঃখের বিষয়, আগামীকাল তা হবে না। তবু আমরা পুরো শক্তি দেব।
ইংল্যান্ডের গণমাধ্যম বিলিচ ও ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রধান কোচ দালিচের পার্থক্য খুব দেখছে। দুই কোচের মধ্যে আপনার মতে কী আলাদা?
তিনি আসার পর থেকেই আমরা এক আলাদা খেলার ধরন দেখতে পাচ্ছি, আর অতীতের চেয়ে আলাদা এক ফুটবল দর্শন।
বিভিন্ন দেশে বহু বছর কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে দেখা যায়। এত বছরের কোচিং তাঁকে বুঝিয়েছে কী গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জীবনের বিষয় নয়, মাঠের বিষয়ও।
এখন পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে যা অনুভব করেছি এবং সবচেয়ে গভীরভাবে বুঝেছি, সেটাই এটা।